শুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ভোর ০৫:২৯


উনিশ বার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে আসা একজন মহিলা আর কত ভালো দেশ চালালে আপনারা খুশি হবেন? এখনতো ঘর থেকেই বের হতে ভয় পান।

রিপোর্টার : নিজস্ব প্রতিবেদক,
প্রকাশ : শুক্রবার , ১৩ জুন ২০২৫ , রাত ১২:০৯

আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে বিদেশে টাকা পাচারের অভিযোগ এক পরিকল্পিত এবং ঘৃণ্য রাজনৈতিক খেলার প্রথম ধাপ 

  মামুনুর রশীদ 

গত ষোল বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেশের বাহিরে টাকা পাচারের অভিযোগ করে আসছে একটা পক্ষ। আগস্টের পাঁচ তারিখে আওয়ামীলীগ সরকারে পতনের পর থেকে এই অভিযোগ নিয়ে একটা শ্বেতপত্র প্রকাশ করার উদ্যোগ নেয়া হয়। 

এক এগারোর (১/১১) কুশীলব এবং জুলাই সন্ত্রাসে পিছনের কলকাঠি নাড়া পক্ষের অর্থনীতিবিদ সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ২০০৯-২০২৩ পর্যন্ত সময়ে বাৎসরিক ১৬ বিলিয়ন ডলার বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়েছে বলে মত দেন। যার প্রমাণ হিসেবে তিনি “পরামর্শমূলক প্রক্রিয়ার” (consultative process) কথা বলেন। ইউনুস বিদেশি গণমাধ্যমে এই সংখ্যা প্রতিবছর ১৭ বিলিয়ন ডলার হবে বলেন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী ইফতেখারুজ্জামান একই সময়ে এই দুর্নীতি “পুরোপুরি প্রমাণযোগ্য নয়” বলেন। 


এরপর দুর্নীতির এই পরিমাণ নিয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে একধরনের ধাঁধা তৈরি করা হয়েছে। পুরোপুরি কোনো প্রমাণ না দেখিয়ে শুধুমাত্র “মতামতের” উপর ভিত্তি করে একটা দল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার, এবং তাদের সাথে জড়িত পাঁচ কোটির উপরে বাংলাদেশে বসবাসরত মানুষকে রাজনৈতিক এবং সামাজিকভাবে হেয় করা শুরু হলো। অনেককে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। 

এর মধ্যেই হঠাৎ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর যুক্তরাজ্য সফর থেকে ফিরে বললেন বাৎসরিক ১৬ বিলিয়ন ডলার নয় বরং ১৬ বছরে ১৮-২০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে থাকতে পারে। এর সাথে জড়িয়ে তিনি শেখ হাসিনা বা তার দলের নাম না নিলেও, চট্টগ্রাম ভিত্তিক ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান এস আলমের নাম নিয়েছেন। 

কেন টাকা পাচারের এই পরিমাণ বাৎসরিক ১৬ বিলিয়ন থেকে কমে (১৮ বিলিয়ন ভাগ ১৬ বছর) বাৎসরিক ১.১৩ বিলিয়ন ডলার হয়ে গেল? কেনইবা কমে গেছে জানার পরেও টাকা পাচার নিয়ে মিথ্যা বলে যাচ্ছে ইউনুস সরকার? 

এই পর্যায়ে আমার প্রস্তাবনা হচ্ছে, তিনটা কারণে এই সংখ্যা হঠাৎ করে কমে গেছে। 

প্রথমত, ইউনূসের ব্যক্তিগত, গ্রামীণ ট্রাস্টের নামে গ্রামীন ফোন এবং অন্যান্য সংস্থার টাকা পাচার, এবং সমন্বয়কদের হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্য দিকে সরাতে এই ঘৃণ্য উদ্যোগ। 

দ্বিতীয়ত, টিউলিপ সিদ্দিক এবং আওয়ামীলীগের টাকা পাচারের হিসাব একসাথে বলে আন্তর্জাতিক সহানুভূতি পাও েছে যেনো তাদের ডিপোজিটের উপর সুদে কোনো খরচ না হয়। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় একটা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে এই ধরনের সুবিধা দেয়া সরাসরি দুর্নীতি। এই দুর্নীতির বিচার করবে কে? আর সরাসরি টাকা মুদ্রণ করে ইসলামিক ব্যাংক বাঁচানো হলে তা আর কতটুকু ইসলামিক থাকলো?    

তাহলে কি আওয়ামীলীগ আমলে দুর্নীতি হয়নি?  উন্নতি যেহেতু হয়েছে দুর্নীতিও হয়েছে। দুর্নীতি হচ্ছে উন্নয়নের উপজাত এবং কিছু ক্ষেত্রে পরিণতি। 

আওয়ামীলীগকে যারা টাকা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত করছে, তারা হয়তো টাকায় দুর্নীতি না করে অস্ত্র বিক্রি করে আরেক দেশ দখলে নিচ্ছে, কোটির উপরে মানুষ মারছে। সেই সংজ্ঞায় আওয়ামীলীগেরটা দুর্নীতি হলে তাদেরটা কি হবে? 


পশ্চিমা বিশ্ব যাদেরকে ধরে ধরে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিচ্ছে, তাদের দুর্নীতি ঢাকতে মানুষ মেরে, পুলিশ মেরে, দেশের সরকার ফেলে দিতে হচ্ছে।


শেখ হাসিনা ৩৮.৮৬ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি দিয়ে ৪৮.১ বিলিয়নের সঞ্চিতি করে দেখিয়েছেন। কয়জন তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছি? উনিশ বার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে আসা একজন মহিলা আর কত ভালো দেশ চালালে আপনারা খুশি হবেন? এখনতো ঘর থেকেই বের হতে ভয় পান।