শুক্রবার , ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ভোর ০৪:০০


খ‍্যাতিমান সাংবাদিক লরা লুমারের ভাইরাল টুইটে যা লিখেছেন-

রিপোর্টার : শুভজ্যোতি
প্রকাশ : বুধবার , ২ এপ্রিল ২০২৫ , দুপুর ১২:৩৯

খ‍্যাতিমান সাংবাদিক লরা লুমারের ভাইরাল টুইটে যা লিখেছেন-

আগামীকাল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মার্কো রুবিও ও মেলানিয়া ট্রাম্পকে লজ্জায় ফেলতে যাচ্ছে। তারা এমন একদল ইসলামপন্থী নারী বিক্ষোভকারীদের পুরস্কার দিতে যাচ্ছেন, যাদেরকে USAID অর্থায়ন করেছিল বাংলাদেশে একটি ‘কালার রেভলিউশন’ সংগঠিত করতে। এই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ছিল আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সদস্যরাও।

ভেটিং সংকট ফাঁস হলো

ট্রাম্প প্রশাসনের ভেটিং সংকটের আরেকটি নজির সামনে এলো, যা মার্কো রুবিও ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।

১ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুর ১টায় (EST), মার্কো রুবিও ও মেলানিয়া ট্রাম্প মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে ‘ইন্টারন্যাশনাল উইমেন অব কারেজ’ (IWOC) পুরস্কার প্রদান করবেন। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, “এই পুরস্কার সেই নারীদের দেওয়া হয়, যারা সাহস, শক্তি ও নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছেন, প্রায়শই ব্যক্তিগত বিপদের মুখেও।”

কিন্তু এই বছর “বাংলাদেশের নারী ছাত্র আন্দোলনের নেতা”দের ‘ম্যাডেলিন অলব্রাইট অনারারি গ্রুপ অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়া হবে, যা রুবিও ও মেলানিয়া ট্রাম্প তুলে দেবেন।

প্রশ্ন হচ্ছে, কেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জর্জ সোরোসের সাথে জড়িত, USAID অর্থায়িত ইসলামপন্থী নারী বিক্ষোভকারীদের পুরস্কৃত করছে? বিশেষত যখন এই নারীরা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ভূমিকা রেখেছিল এবং এখন বাংলাদেশ ধর্ষণ ও নারীবিদ্বেষের কবলে পড়েছে?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেদিনই ইসলামপন্থীরা তার অফিসে ঢুকে তার ব্রা প্রদর্শন করে বিশ্বব্যাপী অপমানজনক বার্তা পাঠায়। বিক্ষোভকারীরা প্রধানমন্ত্রীর পোশাক ও অন্তর্বাস চুরি করে ক্যামেরার সামনে প্রদর্শন করেছিল।

এই আন্দোলনের অর্থায়ন সরাসরি USAID করেছিল।

শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির মাত্র পাঁচ দিন পর, ক্লিনটন ফাউন্ডেশন-সমর্থিত অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বাংলাদেশের নতুন নেতা হিসেবে বসানো হয়। তিনি ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং সেখানে এক পুরুষ বিক্ষোভ নেতাকে শেখ হাসিনাকে উৎখাতের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করেন, যখন নারী বিক্ষোভকারী হিজাব পরে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন।

ইউনূস যে মাস্টারমাইন্ডের কথা বলেছিলেন, সে মাহফুজ আলম—যিনি হিযবুত তাহরীরের একজন চিহ্নিত জঙ্গি। এই মাহফুজ আলম যখন ক্লিনটন ফাউন্ডেশনের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ছিল, তখন বিল ক্লিনটন তাকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন।

হিযবুত তাহরীরের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বব্যাপী ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠা করা এবং শরিয়া আইন বাস্তবায়ন করা।

এছাড়া ইউনূস জামায়াতে ইসলামীকেও সমর্থন দিয়েছেন, যারা এই বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে নারী ছাত্র বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কাজ করেছে।

ইউনূস ও সোরোস পরিবারের সম্পর্ক বহু পুরনো। ১৯৯৯ সালে সোরোস, ইউনূসকে বিপুল অঙ্কের ঋণ দেন, যার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের একটি টেলিকম কোম্পানির ৩৫% শেয়ার কেনেন।

USAID ভেঙে দেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, USAID-এর ২৯ মিলিয়ন ডলার বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল একটি অজানা রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, যাদের মাত্র দুইজন কর্মী ছিল, এবং উদ্দেশ্য ছিল “বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন করা।”

ট্রাম্প এটি প্রকাশ করার পর, ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার সরাসরি অস্বীকার করে যে ২৯ মিলিয়ন ডলার পাঠানো হয়েছিল এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে মিথ্যাবাদী হিসেবে আখ্যা দেয়।

প্রশ্ন হচ্ছে, কেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে সেই নারী বিক্ষোভকারীদের পুরস্কার দিচ্ছে, যারা ইসলামী জঙ্গিদের সাথে হাত মিলিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত এক নারী প্রধানমন্ত্রীকে উৎখাত করেছে?

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন